চার পা ওয়ালা তিমির জীবাশ্ম আবিস্কার

Share on Facebook

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে ৪ কোটি ৩০ লাখ বছর আগের তিমির জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছেন গবেষকেরা। এই আবিষ্কার তিমির বিবর্তন বিষয়ে গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করছেন তারা।

 

গবেষকরা জানিয়েছেন, চার পা ওয়ালা এ তিমি সাঁতারের পাশাপাশি ডাঙায় হাঁটতে সক্ষম ছিল। এর পায়ের আঙুলগুলো পরস্পরের সঙ্গে জোড়া লাগানো এবং তাতে নখও ছিল।

প্রত্নজীবাশ্ম গবেষকদের বিশ্বাস, ১৩ ফুট লম্বা স্তন্যপায়ী সামুদ্রিক এই প্রাণীটির পেছনভাগে ছিল লেজ। চারটি পা দিয়ে সে তার দীর্ঘ লেজসহ শরীর বহন করতে পারত।

বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আধা জলজ এই তিমিটির সঙ্গে বিজ্ঞানীরা ভোঁদড় বা বীবরের মিল খুঁজে পেয়েছেন।

রয়্যাল বেলজিয়ান ইনস্টিটিউট অব ন্যাচারাল সায়েন্সেস-এর বিজ্ঞানী এবং এই গবেষণাপত্রের লেখক ড. অলিভির ল্যামবার্ট জানান, ভারত ও পাকিস্তানের বাইরে পাওয়া তিমির জীবাশ্মের মধ্যে এটি সম্পূর্ণ নমুনা।

পেরুর প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলের এক কিলোমিটার মধ্যে তিমিটির জীবাশ্মের খোঁজ পান গবেষকেরা।

প্রায় ৫ কোটি বছর আগে দক্ষিণ এশিয়াতে তিমির আবাসস্থল ছিল বলে গবেষকদের ধারণা। তারা মনে করছেন, সময়ের বিবর্তনে তিমির দেহ সাঁতারের উপযোগী হয়ে ওঠার পরে তারা উত্তর আফ্রিকা ও উত্তর আমেরিকার দিকে চলে যায়। আর এই অঞ্চল থেকেই তিমিটির জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছেন গবেষকরা। ফলে তাদের ধারণা আরও দৃঢ় হচ্ছে।

পেরু, ফ্রান্স, ইতালি এবং নেদারল্যান্ডের একদল প্রত্নজীবাশ্ম গবেষক ২০১১ সালে চার পাওয়ালা তিমিটির জীবাশ্ম আবিষ্কার করে। গবেষকরা তিমিটির নাম দিয়েছেন ‘পেরেকোসেটাস প্যাসিফিকাস’ যার অর্থ ‘যে তিমি ঘুরতে ঘুরতে প্যাসিফিক পৌঁছেছে’।

লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের অভিজ্ঞ তিমি গবেষক ত্রাভিস পার্ক বলেছেন, বিবর্তনের উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো তিমি। ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী থেকে বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বর্তমানে তারা তিমিতে রূপান্তরিত হয়েছে। মহাসাগর জয় করতে কালক্রমে তাদের যা যা পরিবর্তন হয়েছে আমরা তা জানতে খুবই আগ্রহী।

 

Leave a Reply