পর্যটন ও গ্রামীণ উন্নয়ন বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত

Share on Facebook

বিশ্ব পর্যটন দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘পর্যটন ও গ্রামীণ উন্নয়ন’। বর্তমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীর সংখ্যা একেবারেই কমে এসেছে। অভ্যন্তরীণ ভ্রমণকারীদের উপর নির্ভর করে স্থানীয় পর্যটন গন্তব্যের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ করে গ্রামীণ অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখার অভিপ্রায় ব্যাক্ত হয়েছে এই প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে। একই সাথে জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম অর্গানাইজেশনের (UNWTO) সেক্রেটারি জেনারেল গ্রামীণ উন্নয়ন ও পর্যটনের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

সারাবিশ্বের মত আমাদের দেশেও এই দিবসটি পালিত হল আড়ম্বরপূর্ণভাবেই। কিন্তু গ্রামীণ পর্যটনে আমরা কতটুকু প্রস্তুত হতে পেরেছি সেটাও ভাবার সময় এসেছে। গ্রামীণ পর্যটন বলতে কি আমরা ৮৬ হাজার গ্রামেই পর্যটন গন্তব্য গড়ে তুলবো নাকি কমিউনিটি বেইজড পর্যটনে গড়ে তুলবো? ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন(WHO) জানিয়েছে এই কোভিড পরিস্থিতি আগামী আরও দু’বছর বয়ে চলতে পারে। সেই ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা, নিরাপত্তা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে পর্যটন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে আমরা কতটুকু তৈরি?

১৯৯০ সালে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ‘ওয়ান ভিলেজ ওয়ান ডেস্টিনেশন’ নামে প্রচারণা চালিয়েছিল সেদিকেই কি আবার মনোনিবেশ করবো? তবে সবার আগে গ্রামীণ উন্নয়ন বা পর্যটন গন্তব্য তৈরি মানেই যে ইট, বালু, সিমেন্টের মিশেল নয় সেটার কথাও মাথায় রাখতে হবে। যতটা সম্ভব সাসটেইনেবিলিটি ও কেরিং ক্যাপাসিটির উপর ভিত্তি করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে পর্যটকদেরকেও সচেতন করে গড়ে তুলতে হবে।

তবে পর্যটকদের জন্য কমপক্ষে স্বাভাবিক পর্যটন  সুযোগ-সুবিধা প্রদানে ব্যার্থ হলে এই সকল আলোচনা কাগজেকলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে। সেই ক্ষেত্রে ইউনিয়ন বা উপজেলা পর্যায়ে পর্যটকদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে স্পট সাজানো যেতে পারে। তার জন্য দরকার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম অর্গানাইজেশন পর্যটন ও গ্রামীণ উন্নয়নের উপর ১০ বছর মেয়াদী কর্ম-পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছে। যার মাধ্যমে সম্ভাব্য গাইড লাইন পেতে পারি আমরা।

অপার সম্ভাবনার এই দেশের পরতে পরতে মোড়ানো আছে প্রকৃত প্রদত্ত পর্যটনের সম্ভাবনা। সঠিক পরিকল্পনা, সহযোগীতা, সরকারী ও বেসরকারী সমন্বয়ই পারে পর্যটনের মাধ্যমে গ্রামীণ আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে ও দেশকে টেকসই উন্নয়নের পথে পরিচালিত করতে।

 

নাহিদ হাসান শাওন
শিক্ষার্থী, এমবিএ (ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট)
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী।

Leave a Reply