বিপর্যস্ত পর্যটনে বিধ্বস্ত জীবনরেখা

Share on Facebook

করোনাকালের প্রথম ২ মাসে বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতে পর্যটকদের সংখ্যা ৯৯% হ্রাস পেয়েছে। Weekend Economy পুরো বসে গেছে। ফলে কাজ হারিয়েছেন অনেক পর্যটনকর্মী, আয় কমেছে কর্মী ও উদ্যোক্তাদের এবং বিনিয়োগ হুমকির মুখে পড়েছে। জীবনধারা পরিবর্তিত হতে চলেছে পর্যটনের উপর প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ ও আবেশিতভাবে নির্ভরশীল সব ধরণের মানুষের। এ থেকে প্রথমবারের মতো সকলেই অনুভব করতে শিখলো যে, পর্যটন আমাদের জীবনরেখা।

পর্যটনের অনুপস্থিতিতে আমাদের জীবনে অনেক বড় ধাক্কা লেগেছে। ব্যবসায়, শিক্ষা, উৎপাদন সব কিছু থমকে গেছে। জাতিসঙ্ঘ বিশ্ব পর্যটন সংস্থার গবেষণামতে, পৃথিবীতে ধর্মীয় পর্যটকদের সংখ্যা প্রায় ৭০%। কেবল হজ ও ওমরাহর মতো ধর্মীয় পর্যটনের অনুপস্থিতিতে সৌদি আরবের অর্থনীতি যেভাবে ভেঙ্গে পড়েছে তা বলাই বাহুল্য। এই অল্প সময়ের মধ্যে তারা মূল্য সংযোজন কর বাড়িয়ে ৩ গুন। বাংলাদেশে বিশ্ব ইজতেমায় লক্ষ লক্ষ মানুষ এ বছর আর আসবে না। লক্ষ মানুষের একজনও হয়তো যোগ দিবে না লাঙ্গলবন্দের পূ্ণ্যস্নান কিংবা মন্দিরগুলির নানান আয়োজনে। এতে আমাদের অর্থনীতির কী অবস্থা দাঁড়াবে তা বছর শেষে সরকারি কোষাগারের হিসেব দেখলে বুঝা যাবে।

আগে পর্যটনকে আমরা এভাবে বুঝার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি নাই। আমাদের ধারণা ছিলো পর্যটন ধনীদের কাজ এবং একে বাঁচিয়ে রাখার জন্য বড় বিনিয়োগ ও বড় স্থাপনার দরকার। কিন্তু করোনা শিক্ষা দিলো যে, পর্যটনের অবদান সব মানুষের উপর প্রভাব ফেলে। আর একে বাঁচিয়ে রাখতে হয় পর্যটনশিক্ষা, পরিবেশরক্ষা ও পর্যটকদের মধ্যে আস্থা সৃষ্টির মাধ্যমে।

জাতিসঙ্ঘ বিশ্ব পর্যটন সংস্থার মহাসচিব জুরাব পলিলিকাশভিলি বলেছেন যে, আস্থা এখন পর্যটনের নতুন মুদ্রা। অর্থাৎ পর্যটকদেরকে গন্তব্যে ফেরাতে হলে তাদের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করতে হবে। আস্থা এক ধরণের সামাজিক পুঁজি, যা নেটওয়ার্কের মধ্যে থাকে। এখন তা প্রকৃত পুঁজির চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পর্যটনকে বাঁচাবে – কী বিচিত্র শিক্ষাই না পাচ্ছি আমরা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নাজুক পরিস্থিতিতে উন্নয়নশীল দেশগুলিকে এগিয়ে এসে পর্যটন দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় পর্যটন নামক জীবনরেখার পতন হবে যা পৃথিবীর মানুষের আরেক দফা বিপর্যয়কে নিশ্চিত করবে।

মোখলেছুর রহমান
আহবায়ক, সম্মিলিত পর্যটন জোট এবং সভাপতি, বাংলাদেশ ট্যুরিজম ফাউন্ডেশন।

Leave a Reply