বাই সাইকেল চালিয়ে ভ্রমণ

Share on Facebook

জনবহুল ঢাকা শহর ও এর আশপাশ এলাকায় একদিনের ভ্রমণের (সেইম ডে ট্রাভেল) জন্য বাই সাইকেল হতে পারে সবচেয়ে বড় সহজ বাহন। বাই সাইকেল শুধু পরিবেশবান্ধবই নয় সাশ্রয়ীও বটে। যেহেতু অন্যান্য বাহনের মতো বাই সাইকেলে কোনো জ্বালানী খরচ নেই, তাই আপনি যেকোনো একটা ছুটির দিনে বেড়িয়ে পরতে পারেন সারাদিনের জন্য বাই সাইকেল নিয়ে।

ঢাকা শহরের আশেপাশে যেমন গাজীপুর, সাভার, দোহার, নারায়ণগঞ্জ, মাওয়া ঘাট বা  পদ্মার পাড় ইত্যাদি গন্তব্যগুলোতে গড়ে উঠেছে অনেক পর্যটন স্পট। এই স্পটগুলতে রাত্রিযাপন করা যায় আবার দিনে গিয়ে দিনে ঘুরেও আসা যায়। গাড়ি নিয়ে রাস্তায় জ্যামে বসে না থেকে আপনি নিরিবিলি সুন্দরভাবে ঘুরে আসতে পারেন এগুলোর যেকোনো একটা পর্যটন স্পট থেকে বাই সাইকেল নিয়ে। বাই সাইকেল চালিয়ে ভ্রমণ করতে পারাটা এক ঢিলে দুই পাখি মারতে পারার মতো সুখের। ভ্রমণও হলো আপনার ব্যায়ামও হলো।

আপনি হয়তো খেয়াল করে থাকবেন, যারা নিয়মিত সাইকেল চালায় তারা সাধারণত সুস্বাস্থের অধিকারী হয়।  সুস্বাস্থের অধিকারী হবে না কেন? সাইকেল চালানোর রয়েছে অনেক উপকারিতাঃ

নিয়মিত সাইকেল চালানোর মাধ্যমে আপনি আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। আপনার শরীরের ওজন বেশি হয়ে থাকলে নিয়মিত সাইকেল চালাবেন। সাইকেল চালালে ক্যালোরি খরচ বৃদ্ধি পায় এবং মেটাবলিজম বা বিপাকের হার বৃদ্ধি করে, যার ফলে ওজন কমতে সাহায্য করে।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত সাইকেল চালানোর অভ্যাসের গড়ে তুলতে পারেন। সাইক্লিং হাইপারটেনশনের রোগীদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত সাইক্লিং কার্ডিয়ভাসকুলার ফিটনেসকে উন্নত করে এবং করনারী হার্ট সংক্রমনের ঝুকি কমায়। শুধু তাই নয় সাইকেল চালালে HDL বা ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে LDL বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

প্রতি সপ্তাহে অন্তত ৩৫ কিলোমিটারের মতো দূরত্ব সাইকেল চালালে হৃদরোগের ঝুঁকি ৫০ শতাংশেরও বেশি কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে, স্ট্যাটিক সাইকেল চালনার ব্যায়াম নিয়মিত করলে হার্ট ফেইলিউরের রোগীদের কার্ডিয়াক ফাংশন উন্নত হয়। নিয়মিত সাইকেল চালালে ডায়াবেটিস মেলাইটিসের হার কমানোর মাধ্যমে রক্তের সুগারও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

মাংসপেশির গঠনে চমৎকার কাজ করে সাইক্লিং। বিশেষ করে শরীরের নীচের অংশের গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে সাইক্লিং। এছাড়াও শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও মানসিক স্বাস্থ্য গঠনেও সাইক্লিং ভূমিকা রাখে। সাইকেল চালানোর সময় আমাদের একই মুহূর্তে হাত, পা এবং সমগ্র শরীর সচল থাকে যা আমাদের শরীর ও মনকে চাঙ্গা রাখে। মানসিক প্রশান্তিই আপনার জীবনকে সুখি করে তুলবে।

 

বাই সাইকেলকে ভ্রমণের সঙ্গী করতে হলে কিছু জিনিস বা সরঞ্জাম সঙ্গে রাখতে পরামর্শ দেন যারা নিয়মিত চাইকেল চালায়-

হেলমেট 

এটি যেকোনো বাই সাইকেল আরোহী ও চালকের জন্য জরুরী। বাই সাইকেলের যে কোনো দুর্ঘটনায় যদি আপনি আপনার মাথাকে রক্ষা করতে পারেন তাহলে আপনি অর্ধেক বিপদমুক্ত হয়ে যাবেন। হেলমেট আপনার মাথাটাকে সুরক্ষা দেয়। বাজারে অনেক রকমের হেলমেট মাওয়া যায়। এগুলোর দাম গুনগত মানের প্রকারভেদে ৬৫০ টাকা থেকে সুরু করে ১০০০০ পর্যন্ত হতে পারে।

গ্লাভস

বাই সাইকেল চালানোর জন্য গ্লাভস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা আইটেম। গ্লাভস দুর্ঘটনার সময় হাতকে রক্ষা করবে না কিন্তু হাত ঘামার কারণে সৃষ্ট দুর্ঘটনা হতে রক্ষা করবে। পাশাপাশি হাতে ঠাণ্ডা লাগার হাত থেকেও রক্ষা করবে। ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৩ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে আপনি পাবেন বাই সাইকেলের জন্য হ্যান্ড গ্লাভস।

হেড লাইট 

কোথাও ভ্রমণে গিয়ে ফিরে আসতে রাত হয়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। আর তখনই অন্ধকারে আপনি পড়বেন নানান বিপত্তিতে। আর এই সকল বিপত্তির হাত থেকে আপনাকে রক্ষা করবে হেডলাইট। একটি ভালো মানের হেডলাইট অন্ধকারে আপনাকে পথ দেখাবে। পাশাপাশি আপনার অবস্থান সম্পর্কে অন্যান্যদের সংকেত প্রদান করবে। যা আপনাকে অনেক নিরাপদে রাখবে। বাজারে আপনি ৫৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের হেডলাইট পাবেন।

টেল লাইট  

বাই সাইকেলেই পেছন দিকে লাইটটি ব্যবহৃত হয় তাকে টেল লাইট বলে। এটার ব্যবহার হয় সাইকেলের নিরাপত্তার জন্য। অন্ধকারে সাইকেল পেছন থেকে দেখা যায় না। অর্থাৎ পেছনে থাকা গাড়িগুলো সাইকেল দেখত পায় না। তাই পেছনে লাইট থাকলে তা আপনার নিরাপত্তার জন্য খুবই কার্যকর হবে। এই লাইটগুলো সাধারণত লাল রঙের আলো দেয়। বাজারে বিভিন্ন দামের টেল লাইট পাওয়া যায়।

কেরিয়ার

আজকাল নতুন মডেলের বাই সাইকেলে কেরিয়ার থাকেনা কিন্তু বছরখানেক আগেও যখন নতুন মডেলের গিয়ারসহ সাইকেল বাজারে আসেনি তখন পর্যন্ত সব সাইকেলের পেছনেই এই কেরিয়ার লাগানো থাকত। কিন্তু এখন আর সেটা থাকে না। কিন্তু ভ্রমণে যেতে চাইলে কেরিয়ার অত্যন্ত জরুরি। এটা না থাকলে আপনাকে আপনার ভ্রমণের সময়ের ভারি ব্যাগগুলো নিজের কাঁধে বহন করতে হবে। এটি একটি দুরুহ কাজ হবে। তাই ভ্রমণে বের হবার আগেই আপনার বাই সাইকেলের পেছনে একটা কেরিয়ার লাগিয়ে নিন।

লেগব্যান্ড 

লেগ ব্যান্ডের মূল কাজ হলো ফুলপ্যান্ট পরে বাই সাইকেল চালাতে গেলে প্যান্ট পেঁচিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা। বেশিরভাগ লেগব্যান্ডে আলো পড়লে তা আলোকে প্রতিফলিত করে। যা অন্যান্য চালকদেরকে সাইকেলের অবস্থান জানান দেয়। অনেকে এটি হাতেও পরে থাকে।

এসব জিনিস ছাড়াও প্যাচকিট, পাম্পার, অতিরিক্ত টিউব এসব কিছু সাথে রাখা উচিত। তাহলে আশা করা যায় আপনি সাইকেল নিয়ে ভ্রমণে গিয়ে সাইকেল বিষয়ক কোনো বিড়ম্বনায় পড়বেন না।

Leave a Reply