আটকে গেছে বিদেশি বিমানের বিপুল অর্থ

Share on Facebook

বাংলাদেশে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এয়ারলাইনস প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় ২ হাজার ৩০৪ কোটি টাকার বেশি আটকা পড়েছে। আটকা পড়া অর্থের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা করা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। রোববার এয়ারলাইনসের আন্তর্জাতিক সংগঠন দ্য ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আইএটিএর প্রতিবেদনে বাংলাদেশসহ অন্যান্য কয়েকটি দেশে বিমান সংস্থাগুলোর ডলার আটকে থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। আইএটিএ বলছে, আটকে থাকা অর্থের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বাজারে নির্বিঘ্নে আন্তর্জাতিক বিমানসেবা পরিচালনার বিষয়টি হুমকির মুখোমুখি হয়েছে।

এয়ারলাইনসের আন্তর্জাতিক এই সংগঠন বলেছে, চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আটকা পড়া অর্থের পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের এপ্রিলে বিশ্বজুড়ে এই অর্থের পরিমাণ ১৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা (১ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) থাকলেও ২০২৩ সালের এপ্রিলে তা বেড়ে হয়েছে ২২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বেশি (২ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার)।

এয়ারলাইনসের অর্থ আটকা রয়েছে; বিশ্বের এমন শীর্ষ পাঁচটি দেশের নাম প্রকাশ করেছে আইএটিএ। বিশ্বজুড়ে যত পরিমাণ অর্থ আটকা রয়েছে তার ৬৮ শতাংশই ওই পাঁচ দেশে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক এই সংস্থা।

রোববারের প্রতিবেদনে আইএটিএ বলেছে, বাংলাদেশে ২১৪ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার (২ হাজার ৩০৪ কোটি টাকার বেশি) আটকে আছে।

 

 

  • এয়ারলাইনসের অর্থ আটকের শীর্ষ দেশ

> নাইজেরিয়া (৮১২ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার)

> বাংলাদেশে (২১৪ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার)

> আলজেরিয়া (১৯৬ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার)

> পাকিস্তান (১৮৮ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার)

> লেবানন (১৪১ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার)

আইএটিএর মহাপরিচালক উইলি ওয়ালশ বলেছেন, যেসব বাজার বাণিজ্যিক কার্যক্রমের মাধ্যমে পাওয়া রাজস্ব ফেরত দিতে অক্ষম, সেসব বাজারে এয়ারলাইনসগুলো পরিষেবা চালিয়ে যেতে পারে না। এই সমস্যার সমাধানের জন্য সেসব দেশের সরকারের কাজ করা দরকার, যাতে এয়ারলাইন্সগুলো তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারকে আন্তর্জাতিক চুক্তি ও চুক্তির বাধ্যবাধকতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে আইএটিএ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সাধারণত বিদেশি বিমান সংস্থাগুলো স্থানীয় এজেন্টের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি করে থাকে। টিকিট বিক্রির অর্থের একটি অংশ কমিশন হিসেবে পান স্থানীয় এজেন্টরা। এরপর কমিশন রেখে বাকি অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে ডলারে বিদেশি এয়ারলাইনসের কাছে পাঠান।

কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারি আর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে ডলার সংকট দেখা দেওয়ায় টিকিট বিক্রির অর্থ বিমান সংস্থাগুলোর কাছে পাঠাতে পারছেন না স্থানীয় এজেন্টরা। কবে নাগাদ এই সংকটের সমাধান হবে, সেই বিষয়েও কোনও তথ্য তাদের কাছে নেই বলে জানা গেছে।

 

Leave a Reply