নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক পর্যটন ভবন

দেশের পর্যটন শিল্পকে আকর্ষণীয় করতে দৃষ্টিনন্দন একটি পর্যটন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে গড়ে উঠবে এটি। নতুন এই ভবনটি হবে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান কার্যালয়।

0
90

দেশের পর্যটন শিল্পকে আকর্ষণীয় করতেই মূলত এই স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন ভবনটি হবে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন (বিপিসি) ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের (বিটিবি) প্রধান কার্যালয়। এই ভবন নির্মাণের ফলে পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও প্রসারে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য উন্নত ও মানসম্মত কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এ কথা জানিয়েছে।

১৩ তলা বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন এই পর্যটন ভবনে থাকবে ১১ হাজার ৮১৪ বর্গমিটার জুড়ে কার্যালয়। থাকবে দুটি বেজমেন্টসহ আধুনিক সব সুবিধা। আসবাবপত্রের সংখ্যা হবে ১ হাজার ৫১টি। এছাড়া এখানে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ৫২০ বর্গমিটার আয়তনের অভ্যন্তরীণ রাস্তা ও রুফটপ রেস্তোরাঁ নির্মাণের পরিকল্পনা।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পর্যটন করপোরেশন ও গণপূর্ত অধিদপ্তর যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে প্রকল্পটি। সম্প্রতি এটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন করা হয়েছে। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৯ কোটি ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে (জিওবি) জোগান দেওয়া হবে ৭১ কোটি টাকা। এটি ২০২০ সালের ৩০ জুন মেয়াদে বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, সরকারের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রতিযোগিতামূলক পর্যটন শিল্পের বিকাশে প্রকল্পটি উল্লেখ রয়েছে। এর কার্যক্রম সেই লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সদর দফতরকে একটি আধুনিক ভবন হিসেবে নির্মাণের লক্ষ্যে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক স্থাপত্যশৈলীর সন্নিবেশ থাকবে। ভবনের প্রবেশ এলাকা ও বাইরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাদাকালো মসৃণ সিমেন্ট ও স্টিল শাটার ব্যবহার করা হবে। বেজমেন্টে প্রবেশের র‌্যাম্পের ওপর টেম্পার্ড কাঁচ প্রাকৃতিক আলো প্রবেশ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কাজ করবে। পর্যটন ভবনের অভ্যন্তরে ১০ মিলিমিটার পুরু স্বচ্ছ কাঁচের দেয়াল নির্মাণের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ভবনটিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত স্থাপত্য নকশায় দক্ষিণ অংশ অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেমসহ সূর্যের তাপে কম গরম হয় এমন কাঁচ দিয়ে ঢেকে রাখা হবে। নিচতলার প্রবেশপথের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কারুকাজ সংবলিত কাঠের দরজা বেছে নেবেন সংশ্লিষ্টরা। ভিআরএফ এসির লোড সমতাকরণসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিকল্পে ফলস সিলিংয়ের পরিমাণ থাকবে বেশি। স্থাপত্য নকশা ও বাস্তব প্রয়োজনে সেমিনার হলে যুক্ত করা হবে শব্দদূষণ মুক্ত ব্যবস্থা। বহিঃস্থ বৈদ্যুতিক কাজের পরিধি বৃদ্ধি ও নতুন অঙ্গ হিসেবে ডাটা সেন্টার অন্তর্ভুক্তি ইত্যাদি কারণে প্রকল্পটির ১ম সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

আধুনিক পর্যটন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব মহিবুল হক জানিয়েছেন, প্রকল্পটি শতভাগ বাস্তবায়িত হলে তা পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একটি সম্পদে পরিণত হবে। তার আশা- অত্যাধুনিক পর্যটন ভবনের মাধ্যমে দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশ হওয়ার সুফল আসবে, যা দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন সর্বপ্রথম গঠন করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ১৯৭৩ সালে। করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় ঢাকার মহাখালীতে।

মন্তব্য করুনঃ-

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে