পাখিরা আত্মহত্যা করে যেখানে

আসাম পর্যটন দফতর একটি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করেছে সেখানে। যাতে ওই টাওয়ারে উঠে রাতের বেলা পাখিদের আত্মহত্যা দেখা যায়!

0
61

আসামের এই গ্রামের নাম জাতিঙ্গা। প্রতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এখানে বিভিন্ন ধরনের পাখি এসে আত্মহত্যা করে। পাখিদের আত্মহত্যা দেখতে এই গ্রামে পর্যটকরাও এসে ভিড় করে।

 শত বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতিদিন উড়ে যাচ্ছে হাজারো পাখি মৃত্যুর দিকে, জাতিঙ্গার ছোট এক ফালি জমিতে। ভারতের আসাম রাজ্যের ছোট্ট মফস্বল শহর জাতিঙ্গা ‘পাখিদের মৃত্যু উপত্যকা’ নামেই পরিচিত। পাহাড়ি প্রকৃতি ও সৌন্দর্যে ঘেরা জায়গাটি পাখিদের মৃত্যু রহস্যের জন্যই বেশি বিখ্যাত। এই পাখি রহস্য প্রতি বছর সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাসে, চাঁদহীন অন্ধকার রাতে ৬ টা থেকে সাড়ে ৯ টা অবধি ঘটে।

বর্ষার শেষ মাসগুলোতে, বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী এবং স্থানীয় পাখিরা গ্রামে এসে গণ আত্মহত্যা করে। মাত্র ২,৫০০ জন মানুষের ছোট একটি শহরে, পাখির মৃত্যুর এই উদ্ভট রহস্য নিয়ে পাখিবিজ্ঞানীদের প্রচুর গবেষণার পরেও “কারণ” আজও অনাবৃতই রয়ে গেছে।

লোক কথায় জানা যায়, শতাধিক বছর আগে নাগা উপজাতির কিছু লোক জাতিঙ্গায় গিয়েছিল। সেখানে আগুন পোহানোর সময় তারা এক আশ্চর্য দৃশ্য দেখতে পায়। দলে দলে পাখি এসে আগুনে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যা করছে। পাখিদের এ আত্মহত্যাকে স্থানীয়রা ‘ঈশ্বরের দান’ বলে মনে করেন। প্রতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এখানে বিভিন্ন ধরনের পাখি এসে আত্মহত্যা করে। রহস্যময় এমন ঘটনাই জাতিঙ্গাকে আলোচিত করে তুলেছে পর্যটকদের কাছে।

তাই আসাম পর্যটন দফতর একটি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করেছে সেখানে। যাতে ওই টাওয়ারে উঠে রাতের বেলা পাখিদের আত্মহত্যা দেখা যায়! স্থানীয়রা মাংসের প্রয়োজন হলে রাতে আগুন জ্বেলে বসে। আর পাখিরা ডানা ঝাপটে ঝাপটে আসতে শুরু করে। আলোর উৎসের ঠিক উপরে এসে পাখা আর পা ছেড়ে দিয়ে ধপ করে মাটিতে পড়ে। মায়াবি চোখের পাখিগুলোকে তখন মনে হয় অর্ধমৃত। আকাশ থেকে ঝাপিয়ে পড়ার সময় সব পাখি আগুনের উপর পড়ে না। কিছু পাখি আগুনের আশেপাশে পড়ে। সেগুলো মরার মতোই পড়ে থাকে এবং মানুষের হাতে ধরা দেয়। তখন পাখি শিকারের জন্য আর কষ্ট করতে হয় না। এছাড়া গুলতি দিয়েও শিকার করা যায়।

যেভাবে যাবেন জাতিঙ্গায়- জাতিঙ্গায় কোন বিমানবন্দর নেই। সড়কপথে সংযোগ রয়েছে গৌহাটি ও রওরিয়া থেকে। তবে গৌহাটি ও রওরিয়াতে বিমানবন্দর রয়েছে। বিমানবন্দর থেকে বাস, জিপ ইত্যাদির মাধ্যমে জাতিঙ্গায় যাওয়া যায় সহজেই। সড়কপথে গৌহাটি, তেজপুর এবং উচ্চ আসামের মধ্যে সরকারী ও বেসরকারী বাস সার্ভিস রয়েছে। শিলচরের উদ্দেশ্যে বাসগুলি জাতিঙ্গায় থামে। তবে পর্যটকদের জন্য মাত্র ৯ কি.মি. দূরের হাফলং থেকে অটোরিকশায় করে জাতিঙ্গায় যাতায়াতের সুবিধার জন্য দিনের চুক্তিতে অটোরিকশাও পাওয়া যায়। এছাড়া রেলপথেও যাওয়া যায় জাতিঙ্গাতে। জাতিঙ্গার সবচাইতে কাছের স্টেশনটি প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দূরে লুমডিং। এটি কলকাতা, দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই এবং বেঙ্গালুরুর মতো ভারতের বড় শহরগুলির সাথে সংযুক্ত। গৌহাটি থেকে শাতাবদী এক্সপ্রেসে লামডিং এবং হিল কুইন থেকে লোয়ার হাফলং পর্যন্ত যাওয়া যায়। স্টেশন থেকে অটোরিকশা পাওয়া যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here