অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের অপার সম্ভাবনা

পর্যটকদের কাছে এখন জনপ্রিয় অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম। কেউ পাহাড়ে, কেউ সাগরে, কেউ আবার বন জঙ্গলে রোমাঞ্চকর পর্যটন খুঁজে বেড়ান। মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, দেশেই অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের অনেক স্থান রয়েছে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকার সচেষ্ট। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে অযাডভেঞ্চার ট্যুরিজমকে আরও আকর্ষনীয় করে তুলতে নিরাপত্তা ও যথাযত বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরী।

0
54

পর্যটকরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য, ঐতিহ্যের সঙ্গে খোঁজেন অ্যাডভেঞ্চারও। পাহাড়, বন আর সাগর ঘেরা বাংলাদেশে এখন তাই বাড়ছে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের চাহিদা। ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড টুরিজম কাউন্সিলের ২০১৬-র হিসেব অনুযায়ী বিশ্বের পর্যটকদের ৩৬ শতাংশই আগ্রহী অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমে। তাই ধীরগতিতে হলেও বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পেও অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম ধারণাটি জনপ্রিয়তা লাভ করেছে সম্প্রতি।

পাহাড়ে নতুন নতুন পথ বা ঝরনা খুঁজে বের করা, এগুলোর উৎস অনুসন্ধান করা, দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে কোনো গন্তব্যে যাওয়া, প্রতিকূল পরিবেশে তাঁবু গেড়ে থাকা, নানা ধরণের দু:সাহসিক বা একটু ঝুঁকিপূর্ণ কাজ – যার মধ্যে একটা অভিযানে বের হবার আনন্দ বা রোমাঞ্চ আছে – সেগুলো করার ব্যাপারেই বর্তমানের তরুণ পর্যটকদের আগ্রহ বেশী। বাংলাদেশী পর্যটকদের মধ্যে পাহাড়ে ট্র্যাকিং বা হাইকিং, সমুদ্রে সার্ফিংয়ের জনপ্রিয়তা আগে থেকে থাকলেও ঝরনা বেয়ে পাহাড়ে ওঠা-নামা করা, হ্রদের পানিতে নৌকা চালানো বা জঙ্গলের মধ্যে দড়ি বেয়ে এক গাছ থেকে আরেক গাছে পারাপারের মত বিষয়গুলো এখন নতুন এসেছে।

কিন্তু সুন্দরবন, সিলেট ও পাবর্ত্য চট্টগ্রামে কাজে লাগানো যাচ্ছে না অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের সম্ভাবনা। এই সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকারও করলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিরা। তারা বলছেন, সবার সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব নয়।

তারপরও আজকালকার অধিকাংশ তরুণদের কাছে পাহাড়, জঙ্গল বা সমুদ্রে বেড়াতে গিয়ে কেবল বিশ্রাম নেয়া বা অলসভাবে প্রকৃতির সঙ্গ উপভোগ করাটাই যথেষ্ঠ নয়। আর বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্যে যারা দেশের ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান, তাদের প্রায় ৪০ শতাংশই তরুণ।
বাংলাদেশে অনেক ঝর্ণা, পাহাড়ের অনেক ট্রেইল রয়েছে যেগুলো তরুণ পর্যটকরা নিজেদের উদ্যোগে আবিস্কার করেছে। নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার কারণে সরকার এসব কাজ পরিচালনা করতে পারে না, কিন্তু পর্যটন কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে যথাসাধ্য সহায়তা করার চেষ্টা করা হয় এসব উদ্যোগকে।

এছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকায় কায়াকিং (নদী বা হ্রদে ‘কায়াক’ জাতীয় নৌকা চালানো), জিপলাইনিং (উঁচু পাহাড় বা গাছে দড়ি বেধে চলাচল), র‍্যাপলিং-জুমারিং (দড়ির সাহায্যে পাহাড়ি পথে নামা/ওঠা) এর মত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে ব্যক্তিগত উদ্যোগেই। এছাড়া বাংলাদেশে সম্প্রতি কেবল কার সুবিধা এবং ট্রি-হপিং (দড়ির সিঁড়ি দিয়ে এক গাছ থেকে আরেক গাছে চলাচল) এর ব্যবস্থাও হয়েছে।
এসব ক্ষেত্রে পর্যটন কর্পোরেশন আর্থিকভাবে সহায়তা না করলেও প্রশাসনিক সাহায্য, গাইড সংক্রান্ত সহায়তা ও পর্যটনের প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের মত সহায়তা দিয়ে থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিরাপত্তাসহ নানা সুযোগ-সুবিধার অভাবে এখনও, অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমে পিছিয়ে বাংলাদেশ। তবে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের এই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদে সুফল পেতে সরকারকে এই খাতের উন্নয়নে আরো মনোযোগী হতে হবে। তাদের মতে, এ খাতকে এগিয়ে নিতে হলে দরকার সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ, সাথে পর্যটনবান্ধব নীতিমালা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে